যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বাজারে অন্য কোম্পানির বিদ্যুচ্চালিত যানবাহনের (ইভি) তুলনায় টেসলার ব্যবহৃত গাড়ির দাম দ্রুত কমছে। অবশ্য দামের পতনে মূল কারণ হিসেবে ব্র্যান্ডটির মালিক ইলোন মাস্কসংশ্লিষ্ট এমন নয়। বরং লিজ বা ভাড়ার মেয়াদ শেষ হওয়ায় অনেক গাড়ি একসঙ্গে বাজারে আসায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। খবর এফটি।
অনলাইন মার্কেটপ্লেস কারগুরুসের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত টেসলার দাম ২০২৩ সালের একই সময়ের তুলনায় ৭ শতাংশ কমেছে, যেখানে অন্যান্য ইভি ব্র্যান্ডের দাম কমেছে ১ দশমিক ৫ শতাংশ। যুক্তরাজ্যে টেসলার দাম কমেছে ১৫ শতাংশ, অন্যদিকে সব ব্যবহৃত ইভির গড় দাম কমেছে ১০ শতাংশ।
অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে রাজনৈতিক কারণে এমনটা ঘটছে কিনা। কারণ ইভি কেনার প্রবণতা সাধারণত বামঘেঁষা ভোটারদের মধ্যে বেশি। অন্যদিকে ইলোন মাস্ক যুক্তরাষ্ট্রে কট্টর ডানপন্থীদের মুখপাত্র এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গাড়ি কেনাবেচার সাইট এডমন্ডস জানিয়েছে, ২০১৭ সালের পর তৈরি অনেক টেসলা হঠাৎ করে ডিলারদের কাছে ট্রেড-ইন হিসেবে জমা পড়ছে। মানে নতুন গাড়ি কেনার সময় পুরনো গাড়ি জমা দিয়ে মূল্য সমন্বয় বেড়েছে। মার্চের মাঝামাঝি সময়ে এ ধরনের লেনদেন হয়েছে মোট ট্রেড-ইনের ১ দশমিক ৪ শতাংশ, যেখানে গত বছর ছিল দশমিক ৪ শতাংশ।
তবে কারগুরুসের অর্থনৈতিক ও বাজার বিশ্লেষণ বিভাগের পরিচালক কেভিন রবার্টস বলেন, ‘ব্যবহৃত টেসলার গড় দাম কমার মূল কারণ হচ্ছে, পুরনো মডেলের গাড়ির বড় একটি অংশ একসঙ্গে বাজারে আসা।’ সঙ্গে যোগ করেন, ২০২৩ সাল থেকে নতুন টেসলার দামে ধারাবাহিক কাটছাঁট ব্যবহৃত গাড়ির বাজারে চাপ তৈরি করছে।
অন্যদিকে অটো ট্রেডারের বাণিজ্যিক বিভাগের পরিচালক ইয়ান প্লামার জানান, যুক্তরাজ্যে ব্যবহৃত টেসলার দাম কমার কারণও প্রায় একই। মার্চে অটো ট্রেডারে ব্যবহৃত টেসলার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪০০, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।